ঢাকা সোমবার, ২৪শে জানুয়ারী ২০২২, ১০ই মাঘ ১৪২৮


ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার


প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর ২০২১ ০৯:২৪

আপডেট:
২৪ জানুয়ারী ২০২২ ০৩:২৩

হেলথ টিভি
রক্তনালি রোগের জরুরি চিকিৎসা সেবা (Vascular Emergency)
--------------------------------------------------------------
১।
শরীরে গহনা ব্যবহারের শখ আছে নরসিংদীর গৃহবধূ কান্তার। সেদিন জরুরি কাজে বাইরে যেতে হয়েছিলো কান্তাকে। বাম হাতে সোনার চুরি ছিলো। ফেরার পথে রিক্সায় একটু অন্যমনষ্ক ছিলেন। হঠাৎ বাম হাতে একটা হ্যাচকা টান অনুভব করলেন, সেই সাথে কব্জির একটু উপরে তীব্র ব্যথা। রিক্শা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। মাথা তুলে দেখতে পেলেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। বাম কব্জি থেকে রক্ত ছুটছে তীব্র বেগে। চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন কান্তা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা গেলো তার বাম হাতটা কব্জির কাছ থেকে কেটে গিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সামান্য একটু চামড়া দিয়ে ঝুলছে। কান্তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে আসতে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লেগে যায়। মাঝখানে পঙ্গু হাসপাতালে কব্জির দ্বিখন্ডিত হাড় জোড়া লাগাতে হয়েছে। হৃদরোগ হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা দেখতে পান কান্তার হাতে রক্ত সরবরাহকারি দু'টো রক্তনালিই সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দ্রুত রক্তনালি মেরামতের মাধ্যমে হাত টিকিয়ে রাখার কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হলেন ভাস্কুলার সার্জনরা।
 
২।
মিসেস সালেহা খানম অ্যাজমা রোগী। শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এক পর্যায়ে করোনা টেস্টে পজিটিভ হলেন। করোনার চিকিৎসা চলতে চলতেই একদিন হঠাৎ বাম পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করলেন। মনে হলো কেউ যেন ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করেছে। না, আঘাতের কোন চিহ্ন দেখা গেলো না, কিন্তু তিনি খেয়াল করলেন পা'টা খুব ঠান্ডা হয়ে গেছে। গরম তেল দিয়ে হাত মালিশ করলেন, মোজা পরে কম্বলের তলায় পা ঢুকিয়ে রাখলেন, কিন্তুু কিছুতে কিছু হলো না, ব্যথা বেড়েই চললো। পরদিন ভাস্কুলার ডপ্লার পরীক্ষায় ধরা পড়লো বাম পায়ে রক্ত সরবরাহকারি মূল ধমনীটি কুচকির কাছ থেকে অর্থাৎ প্রায় গোড়া থেকে জমাট রক্ত দিয়ে বন্ধ। ততক্ষণে পায়ের নাড়াচাড়ার ক্ষমতা ও বোধশক্তি প্রায় পুরোপুরি লোপ পেয়েছে, পা কালো হয়ে যেতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপারেশনের মাধ্যমে জমাট রক্ত বের করে ধমনী চালু করলেন ভাস্কুলার সার্জনরা।
 
৩।
হৃদরোগ হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে শুয়ে থাকা শিহাবকে দেখে মনে হয় না সে অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট। হবেই বা কী করে? পড়াশোনা জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে এখন তার এক পৃথিবীর দূরত্ব। মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলো শিহাব। শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নিতো সে। বারবার সুঁচের খোঁচায় এক পর্যায়ে কুচ্কির কাছের বড় ধমনীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখান থেকে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হওয়াতে হৃদরোগ হাসপাতালের ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তাকে। শিহাবের ছোট ভাইও মাদকাসক্ত ছিলো। মাদকের সুচের আঘাতে তারও ডান কুচ্কির কাছের ফিমোরাল ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। সময়মতো মেরামত না হওয়াতে পা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো তার, হাটুর উপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয় সেই পা। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পঙ্গুত্ব বরণ করে ছেলেটি। শিহাব ভাগ্যবান। তার রক্তনালি মেরামতের জরুরি অপারেশনটি সফল হয়েছিলো।
কান্তা, সালেহা, শিহাবদের গল্পগুলো সত্যি। কেবল স্থানকালপাত্রের এদিক ওদিক। ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রতিদিন এরকম বহু কান্তা, সালেহা, মুরাদদের সমাগম ঘটে থাকে। অল্প একটু জায়গা- মাঝে মাঝে রোগী, রোগীর মা বাবা, আত্মীয় স্বজনদের ভীড়ে সেখানে পা ফেলার জায়গা থাকে না।
 
ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি কী?
মানবদেহের রক্ত চলাচলের রাস্তা তথা ধমনী ও শিরার সমস্যা নিয়ে কাজ করে ভাস্কুলার সার্জারি। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে রক্তনালির রোগের নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবার আবশ্যকীয়তা রয়েছে। 'ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি' জীবন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষাকারী একটি সেবা। কখন প্রয়োজন হতে পারে এই সেবা- উপরের গল্পগুলোতে সে সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়া হয়েছে। তবে এগুলো ছাড়াও আরো অনেক কারণে রক্তনালির জরুরি সেবা প্রয়োজন হয়। সড়ক দুর্ঘটনা বা সহিংসতায় হাড্ডি মাংসের ক্ষতির সাথে ধমনী ও শিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ধমনী ও শিরার মারাত্মক ক্ষতি জীবন ও অঙ্গহানির কারণ হয়ে থাকে। কখনো বা জমাট রক্ত দিয়ে রক্তনালি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। হার্টের ভাল্বের সমস্যা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এর অন্যতম কারণ। করোনা সংক্রমণের কারণেও রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে যাবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না গেলে এসব ক্ষেত্রে অঙ্গহানি অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। আর এসবই ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি বা রক্তনালির জরুরি চিকিৎসা সেবার আওতাভুক্ত।
 
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে রক্তনালির জরুরি সেবা:
ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালকে অনেকে কেবলই হার্ট অর্থাৎ হৃৎপিন্ডের রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র বলে ধারণা করে থাকেন। ধারণাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। এখানে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসার পাশাপাশি মানবদেহের রক্ত চলাচল সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসার জন্য রয়েছে ’ভাস্কুলার সার্জারি’ নামে আলাদা বিভাগ, স্বতন্ত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা। যদিও হার্ট ও রক্তনালিকে বৃহত্তর কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমের দুই অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিন্তা করবার ভেতরে কোন ভুল নেই, তবু চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের স্বার্থে উন্নত বিশ্বের আদলে এদেরকে আলাদা বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বলা বাহুল্য, দেশের বৃহত্তম রক্তনালি চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালেই বিদ্যমান। এখানে রক্তনালি রোগের সব ধরনের আধুুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল দিনরাত ২৪ ঘন্টা রক্তনালির জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। করোনা মহামারির ভেতরেও এখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্তনালির জরুরি চিকিৎসা সেবা চালু রয়েছে।
গত বছর মার্চ থেকে এ বছর জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত এখানে প্রায় দুুই হাজার ইমার্জেন্সি ভাস্কুলার সার্জারি অর্থাৎ রক্তনালির জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালির রোগী যেমন ছিলো, তেমনি ছিলো সহিংসতার কারণে রক্তনালি ছিঁড়ে কেটে যাওয়া রোগী। লক ডাউনের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালি রোগীর সংখ্যা কমলেও সহিংসতায় রক্তনালি নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগীর সংখ্যা কমেনি। এছাড়াও ছিলো শিরায় মাদক ব্যবহাকারী রোগী, ডায়ালাইসিসের ফিস্টুলা ফেটে যাওয়া রোগী, অন্য কোন চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালির রোগী। আবার করোনা ভাইরাসের কারণে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে রক্তনালি বন্ধ হয়ে হয়ে যাওয়া রোগীর সংখ্যাও কম নয়। রক্তনালির জরুরি সেবার ফলাফলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো 'সময়'। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক ঘন্টার মধ্যে রক্তনালী মেরামত করে রক্ত সঞ্চালন ঠিক করা না গেলে অঙ্গহানি এড়ানো সম্ভব হয় না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগীকে ইমার্জেন্সি ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগে নিয়ে আসতে পারা না পারার উপরে চিকিৎসার ফলাফল বহুলাংশে নির্ভর করে। আমাদের দেশে বিভিন্ন কারণে রক্তনালির এ ধরনের রোগীরা ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগ পর্যন্ত আসতে অনেক বেশি সময় নিয়ে থাকেন। লক ডাউনের দিনগুলোতে সময় লেগেছে আরো বেশি। তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে করোনাকালে রক্তনালির জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অঙ্গহানির হার করোনাপূর্ব সময়ের চাইতে কিছুটা বেশি।
 
চলমান মহামারিতে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের এক চতুর্থাংশ চিকিৎসক করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এই বিভাগে কর্মরত সেবিকা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণের মধ্যে সংক্রমণের হার আরো বেশি। এতদসত্ত্বেও করোনাকালে এই বিভাগে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়নি। কোভিডকালে রক্তনালির জরুরি চিকিৎসা সেবার রূপরেখা নিয়ে গাইডলাইন তৈরি করে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেছেন এই বিভাগের চিকিৎসকগণ। এই রূপরেখায় রক্তনালির জরুরি সেবাকে রোগ ও অবস্থার গুরুত্ব অনুযায়ী পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করে প্রতিটির জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের সীমিত সম্পদ ও লোকবলকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি এই রূপরেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেডিকেল সংস্থার করোনাকালের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
 
দেশে রক্তনালির রোগ চিকিৎসা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র:
দেশে রক্তনালির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। রাজধানীর বাইরে রক্তনালি চিকিৎসা সেবা প্রায় নেই বললেই চলে। সরকারি পর্যায়ে কেবল চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নামমাত্র এই সেবা চালু আছে। তবে সেখানেও জরুরি সেবা অর্থাৎ ভাস্কুলার ইমার্জেন্সির কোন ব্যবস্থা নেই। ঢাকাতে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ছাড়াও শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ বেসরকারি কিছু হাসপাতাল রক্তনালির নিয়মিত ও জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশের মত একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠির জন্য এটি একেবারেই যথেষ্ট নয়। মূলত ইমার্জেন্সি ভাস্কুলার রোগীদের জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় এসে চিকিৎসা নেবার বাধ্যবাধকতাটাই অঙ্গহানি ও প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, ইমার্জেন্সি রক্তনালি রোগীদের জন্য যা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
 
অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ভাস্কুলার সার্জারি এদেশের চিকিৎসা সেবার একটি দ্রুত বিকাশমান শাখা। একটু একটু করে হলেও সাধারন জনগনের মধ্যে রক্তনালির রোগ বা ’ভাস্কুলার ডিজিজে’র ব্যপারে সচেতনতা বাড়ছে। সরকারের তরফ থেকেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার বিকাশে দৃশ্যমান উদ্যোগ রয়েছে। ’ভার্টিকাল এক্সটেনশনে’র মাধ্যমে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের কলেবর বৃদ্ধির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বলা বাহুল্য, এতে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগের মত ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগও উপকৃত হবে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে জনগনের মধ্যে রক্তনালি রোগের ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। অন্যথায় রক্তনালির ক্ষতি অঙ্গহানি ও প্রাণহানির কারণ হতেই থাকবে। এক্ষেত্রে এই ক্ষতির সবচাইতে বড় শিকার যুব সমাজ- একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য যা এক অশনি সংকেত।
 
শেষ কথা:
করোনা মহামারিতে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা সেবার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে জরুরি চিকিৎসা সেবাকে প্রাধান্য দেয়া, চিকিৎসক ও সেবিকাসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও জরুরি নয় এমন সেবা সীমিতকরণ পরিবর্তিত এই সেবার মূলনীতি। এর আলোকে ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগও তাদের তৈরি নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সেবা দিয়ে আসছে। গত বছরের শেষের দিকে এদেশে মহামারির প্রকোপ কমে আসলে এই বিভাগে জরুরি সেবার পাশাপাশি স্বাভাবিক কর্মকান্ড শুরু করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর বাংলাদেশ করোনা মহামারির ’তৃতীয় ঢেউ বা থার্ড ওয়েভ’ও মোকাবিলা করেছে। তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার ও মৃত্যু- দু’টোই বেড়েছিলো যা এখন নিয়ন্ত্রণে। ভাসকুুলার সার্জারি বিভাগ এখন রক্তনালির জরুরি সেবাসহ অন্যান্য সেবাসমূহ আবারও পুরোপুরি শুরু করেছে। হৃদরোগ হাসপাতালের ভাস্কুলার ইমার্জেন্সি’ বিভাগটিতে বিছানা সংখ্যা মাত্র ৮ টি। এলাকাটি যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। লোকবলও সীমিত। এখানে কর্মরত সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই সেবা অব্যাহত রাখতে হলে রোগীর স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে ।
 
-------------------------------
ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার
সহযোগী অধ্যাপক (ভাস্কুলার সার্জারি)
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
কনসালট্যান্ট ভাস্কুলার সার্জন,
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা।
ই-মেইল: ahmbashar@gmail.com
 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top